ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি শনিবার ঘোষণা করেছেন যে দক্ষিণ ইয়েমেনের সব সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনী এখন থেকে সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের সরাসরি কমান্ডের অধীনে পরিচালিত হবে। সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তির একটি ব্যর্থ অভিযানের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আল-আলিমি টেলিভিশনে বলেন, সৌদি জোটের অধীনে একটি ‘সুপ্রিম মিলিটারি কমিটি’ গঠন করা হবে, যা দক্ষিণের সব বাহিনীর প্রশিক্ষণ, অস্ত্রসজ্জা ও পরিচালনার দায়িত্ব নেবে।
এই ঘোষণা আসে এমন সময়ে, যখন সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনী দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে ইউএই সমর্থিত সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলকে (এসটিসি) হটিয়ে পুনরায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। সৌদি আরব ও ইউএই দীর্ঘদিন ধরে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে গঠিত জোটের প্রধান মিত্র হলেও বর্তমানে তারা প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের ভিন্ন গোষ্ঠীকে সমর্থন করছে, যা দক্ষিণ ইয়েমেনের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।
এসটিসির ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। সংগঠনটির নেতা দেশত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে, এবং রিয়াদে পাঠানো প্রতিনিধিদল সংগঠনটি বিলুপ্তির ঘোষণা দিলেও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সদস্যরা দাবি করেছেন, সিদ্ধান্তটি চাপের মুখে নেওয়া হয়েছে। এদিকে এডেনে হাজারো মানুষ এসটিসির সমর্থনে বিক্ষোভ করেছে।
দক্ষিণ ইয়েমেনের সামরিক বাহিনী সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের নিয়ন্ত্রণে
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ঘোষণা করেছে যে তারা দেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চল বিচ্ছিন্নতাবাদী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) কাছ থেকে পুনরুদ্ধার করেছে। শনিবার সৌদি আরব সমর্থিত প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের (পিএলসি) প্রধান রাশাদ আল-আলিমি জানান, সরকারি বাহিনী দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ পুনরুদ্ধার করেছে এবং দক্ষিণ ইয়েমেনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে। তিনি নাগরিকদের আশ্বস্ত করেন যে হাদরামাউত ও আল-মাহরা প্রদেশ এখন সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
আল-আলিমি আরও জানান, ইয়েমেন সরকার এসটিসির সাবেক সদস্যদের সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে এবং এখন থেকে সব সামরিক বাহিনী সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অধীনে কাজ করবে। গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে সৌদি সমর্থিত অভিযানে এসটিসিকে হাদরামাউত ও আল-মাহরা থেকে বিতাড়নের পর এই ঘোষণা আসে। এই দুটি প্রদেশ সৌদি সীমান্তবর্তী এবং ইয়েমেনের প্রায় অর্ধেক ভূখণ্ড জুড়ে অবস্থিত।
অন্যদিকে, এসটিসির ঘাঁটি এডেনে হাজার হাজার সমর্থক রাস্তায় নেমে সৌদি আরব ও ইয়েমেনি সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়।
এসটিসির কাছ থেকে দক্ষিণাঞ্চল পুনরুদ্ধারের পর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দাবি ইয়েমেনের
সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সমর্থিত ইয়েমেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে। সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর এই ঘোষণা আসে। দক্ষিণ ইয়েমেনের অস্থিরতা নিরসনে আলোচনার জন্য এসটিসির প্রতিনিধিরা রিয়াদে অবস্থান করছিলেন বলে আল জাজিরা জানিয়েছে। সংগঠনটি জানায়, তাদের সব প্রধান ও সহায়ক সংস্থা ভেঙে দেওয়া হবে এবং দেশের ভেতরে-বাইরে সব অফিস বন্ধ করা হবে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, এসটিসি নেতা আইদারুস আল-জুবাইদি রিয়াদে নির্ধারিত শান্তি আলোচনায় না গিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পালিয়ে গেছেন। জোটের বিবৃতিতে বলা হয়, বুধবার গভীর রাতে তিনি ইয়েমেনের এডেন বন্দর থেকে নৌকায় সোমালিল্যান্ডের বেরবেরা বন্দরে যান। এসটিসি সৌদি আরবের উদ্যোগের প্রশংসা করে জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ ইউএই-এর সঙ্গে বিরোধ কমাতে সহায়তা করতে পারে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এডেন ও আশপাশের এলাকায় এসটিসি ও সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর মধ্যে সহিংসতা বেড়েছে। দক্ষিণ ইয়েমেনের মুকাল্লা বন্দরে ইউএই-এর অস্ত্র চালানে সৌদি জোটের বিমান হামলার পর উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়।
সৌদি বৈঠকের পর ইউএই-সমর্থিত ইয়েমেনি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন এসটিসি বিলুপ্ত ঘোষণা
ইয়েমেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা আইদারোস আলজুবাইদি সংযুক্ত আরব আমিরাতে পালিয়ে গেছেন বলে বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। জোট জানায়, ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকা দখল ও স্বাধীনতার পথে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করার পর আলজুবাইদি দেশ ত্যাগ করেন। নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জোট জানায়, আলজুবাইদি ও তার সহযোগীরা গভীর রাতে পালিয়ে যান।
জোটের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তারা এডেন থেকে নৌকা ও বিমানের মাধ্যমে আবুধাবিতে পৌঁছান। রিয়াদ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে। ইয়েমেনের চলমান অভ্যন্তরীণ বিভাজনের প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ আলজুবাইদি দেশটির বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা।
বিবৃতিতে আলজুবাইদির বর্তমান অবস্থান বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া উল্লেখ করা হয়নি।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, ইয়েমেনি নেতা আলজুবাইদি আমিরাতে পালিয়েছেন
সংযুক্ত আরব আমিরাত সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সংঘাত বৃদ্ধি রোধে ইয়েমেনে সীমিত প্রাক-প্রতিরোধমূলক হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। বুধবার এক বিবৃতিতে জোট জানায়, সৌদি সীমান্তবর্তী হাদরামাউত প্রদেশে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সাম্প্রতিক অগ্রযাত্রা এবং সরকারি বাহিনীকে বিতাড়নের পর এই হামলা চালানো হয়। গত সপ্তাহে জোটের বিমান ও স্থল অভিযানের ফলে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা পিছু হটে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা আইদারোস আল-জুবাইদির নেতৃত্বে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় এবং তা আল-ধালে গভর্নরেট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে নতুন হামলা চালানো হয়েছে। জোট জানায়, তারা ইয়েমেনি সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা করছে। আল-জুবাইদি মঙ্গলবার রিয়াদে আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও তিনি ফ্লাইটে ছিলেন না এবং পরবর্তীতে ‘অজানা স্থানে পালিয়ে গেছেন’ বলে দাবি করেছে জোট। এতে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনের দক্ষিণভিত্তিক সরকারের ভিন্ন পক্ষগুলোকে সমর্থন দিয়ে আসছে এবং তারা একসময় একসঙ্গে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছিল।
ইয়েমেনে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংঘাত ঠেকাতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সীমিত হামলা
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার চলমান সংঘাত নিরসনে বিবদমান পক্ষগুলোকে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সাবা নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের (পিএলসি) চেয়ারম্যান রশিদ আল-আলিমি দক্ষিণ ইয়েমেনের সব পক্ষকে রিয়াদে সংলাপে অংশ নিতে আহ্বান জানান। সৌদি আরব এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে দক্ষিণ ইয়েমেনের সব বিবদমান পক্ষকে রিয়াদে আলোচনায় যোগ দিতে আহ্বান জানিয়েছে। তবে রাজধানী সানা নিয়ন্ত্রণকারী ইরান সমর্থিত হুথি যোদ্ধাদের এ সংলাপ থেকে বাদ রাখা হয়েছে।
এই আহ্বান আসে ইয়েমেনের হাজরামাউত ও আল-মাহরা প্রদেশে সংযুক্ত আরব আমিরাত সমর্থিত সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) দখল অভিযান এবং পরবর্তী সৌদি বিমান হামলার পর। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দক্ষিণের বিবাদ ন্যায্যভাবে সমাধানে সর্বাঙ্গীণ কাঠামো গঠনের জন্য এই সংলাপ প্রয়োজন। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত দীর্ঘদিন ধরে ইয়েমেনের স্বীকৃত সরকারকে হুথিদের বিরুদ্ধে সহায়তা দিয়ে আসছে, যদিও সাম্প্রতিক সময়ে এসটিসি দক্ষিণ ইয়েমেনের স্বাধীনতার দাবি জোরদার করেছে।
এসটিসি দুই বছরের মধ্যে ‘দক্ষিণ আরব’ নামে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যা রিয়াদ সংলাপের গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে।
দক্ষিণ ইয়েমেনের উত্তেজনার মধ্যে হুথিদের বাদ দিয়ে রিয়াদে সংলাপের আহ্বান সৌদির
ইয়েমেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) আগামী দুই বছরের মধ্যে দক্ষিণ ইয়েমেনকে উত্তর থেকে স্বাধীন করার বিষয়ে গণভোট আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। শুক্রবার টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে এসটিসি সভাপতি আইদারোস আলজুবিদি বলেন, তারা দুই বছরের একটি অন্তর্বর্তীকালীন পর্ব শুরু করছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে উত্তর ও দক্ষিণ ইয়েমেনের পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপের পৃষ্ঠপোষকতা করার আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করেন, যদি সংলাপ না হয় বা দক্ষিণ ইয়েমেন আবার আক্রমণের শিকার হয়, তবে তারা অবিলম্বে স্বাধীনতা ঘোষণা করবে।
এই ঘোষণা এমন সময় এসেছে যখন সৌদি সমর্থিত বাহিনী ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সমর্থিত এসটিসির মধ্যে সংঘর্ষ তীব্র হয়েছে। সৌদি সীমান্তবর্তী হাদরামাউত প্রদেশে সৌদি সমর্থিত গভর্নরের অনুগত বাহিনী ও এসটিসি যোদ্ধাদের মধ্যে লড়াই শুরু হয়েছে। এসটিসির কমান্ডার মোহাম্মদ আব্দুল মালিক জানান, সৌদি আরবের চালানো সাতটি বিমান হামলায় অন্তত সাতজন নিহত এবং ২০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।
২০১৪ সালে হুথি বিদ্রোহীদের রাজধানী সানা দখলের পর থেকে ইয়েমেন উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্ত অবস্থায় রয়েছে, যেখানে দক্ষিণাঞ্চল সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের নিয়ন্ত্রণে।
দক্ষিণ ইয়েমেনের স্বাধীনতার গণভোট দুই বছরের মধ্যে আয়োজনের ঘোষণা দিল এসটিসি
ইয়েমেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সৌদি আরবের বিমান হামলায় অন্তত সাতজন নিহত ও ২০ জনের বেশি আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি)। ওয়াদি হাদরামাউত ও হাদরামাউত মরুভূমিতে আল-খাসার শিবিরে সাতটি বিমান হামলা চালানো হয় বলে এসটিসির প্রধান মোহাম্মদ আব্দুল মালিক জানান।
মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিসেম্বরে এসটিসি কর্তৃক দখলকৃত অঞ্চল পুনরুদ্ধারের জন্য সৌদি সমর্থিত বাহিনী এই অভিযান শুরু করে। সৌদি সমর্থিত হাদরামাউতের গভর্নর সালেম আল-খানবাশি একে ‘শান্তিপূর্ণ অভিযান’ বলে ঘোষণা করেছিলেন, তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই এসটিসি কর্মকর্তারা রিয়াদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলেন।
এসটিসির পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিনিধি আমর আল-বিদ অভিযোগ করেন, সৌদি আরব ইচ্ছাকৃতভাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করেছে এবং শান্তির নামে বিমান হামলা চালিয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের নেতৃত্বাধীন পরিষদ খানবাশিকে সামরিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রদান করেছিল। সৌদি আরব এখনো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলায় সাতজন নিহত, শান্তিপূর্ণ অভিযানের দাবিতে বিতর্ক
ইয়েমেনের এডেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছে সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি)। ফ্লাইট বন্ধের পর যাত্রীরা টার্মিনালে তথ্য জানতে ভিড় করেন। সংযুক্ত আরব আমিরাত সমর্থিত এসটিসি ও সৌদি আরব সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের মধ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চ্যানেল এআইসি জানায়, সৌদি আরব এডেন বিমানবন্দরে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ করে দিয়েছে, ফলে বিমানবন্দরের কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্থগিত হয়েছে। এডেন বিমানবন্দর মূলত সৌদি আরব, মিশর ও জর্ডানে ফ্লাইট পরিচালনা করত। এসটিসি কর্তৃপক্ষের অধীনে পরিচালিত পরিবহন ও বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় সৌদি আরবের এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানায়, সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোটের কাছ থেকে তারা একটি স্মারক পেয়েছে, যাতে সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইটকে প্রথমে জেদ্দায় যাত্রাবিরতি ও পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরে সৌদি কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানায়, নিষেধাজ্ঞা কেবল এডেন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফ্লাইটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে এডেন বিমানবন্দরে ফ্লাইট স্থগিত
সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করার পর দেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের প্রধান এই ঘোষণা দেন এবং একই সঙ্গে ইউএইর সঙ্গে করা নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত জানান।
সরকারি এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ইউএইর সঙ্গে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে। রিয়াদ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। পৃথক এক ডিক্রিতে ৯০ দিনের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করা হয় এবং প্রথম ৭২ ঘণ্টার জন্য আকাশ, স্থল ও সমুদ্রপথে অবরোধ আরোপের কথা জানানো হয়।
এই পদক্ষেপগুলো ইউএই-সমর্থিত গোষ্ঠীর অগ্রগতির পর ইয়েমেনের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক অবস্থানে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা ও আঞ্চলিক সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়াতে পারে।
ইউএই-সমর্থিত গোষ্ঠীর দখলের পর ইয়েমেনে জরুরি অবস্থা ও চুক্তি বাতিল
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলা ও দক্ষিণাঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ইয়েমেন থেকে নিজেদের অবশিষ্ট সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইউএই বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জানানোর পর এ সিদ্ধান্ত আসে। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও সন্ত্রাসবিরোধী মিশনের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতার সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করে স্বেচ্ছায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে এবং প্রক্রিয়ায় বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
এর আগে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান রাশাদ আল-আলিমি ইউএইর সঙ্গে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি বাতিল করেন, ৯০ দিনের জরুরি অবস্থা জারি করেন এবং ৭২ ঘণ্টার জন্য সব সীমান্ত ও বন্দর বন্ধের ঘোষণা দেন। এ পদক্ষেপ আসে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সীমিত বিমান হামলার পর, যেখানে ইউএই–সম্পৃক্ত দুটি জাহাজকে লক্ষ্য করে মুকাল্লা বন্দরে আঘাত হানা হয়। ইয়েমেন সরকার অভিযোগ করে, ওই জাহাজগুলো দক্ষিণ ইয়েমেনের সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের কাছে অস্ত্র পাঠাচ্ছিল।
এই সেনা প্রত্যাহার জোটের অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক ও দক্ষিণ ইয়েমেনের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
সৌদি জোটের হামলা ও উত্তেজনার মধ্যে ইয়েমেন থেকে সেনা প্রত্যাহার করছে ইউএই
ইয়েমেনের হুথি আন্দোলন সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ইসরাইলের স্বীকৃতির পর কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে। ২৬ ডিসেম্বর ইসরাইল প্রথম দেশ হিসেবে সোমালিল্যান্ডকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়, যা ১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে পৃথক হওয়া স্বঘোষিত প্রজাতন্ত্রের প্রথম আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সোমালিয়া, পাশাপাশি কয়েকটি মুসলিম দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আফ্রিকান ইউনিয়ন, ওআইসি ও আরব লিগও বিবৃতি দিয়েছে।
হুথি নেতা আবদেল-মালিক আল-হুথি বলেছেন, সোমালিল্যান্ডে ইসরাইলি উপস্থিতি তার সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ‘সামরিক লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি একে সোমালিয়া ও ইয়েমেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। হুথি নেতা সতর্ক করেছেন, এই স্বীকৃতির পরিণতি হবে গুরুতর এবং এটি সোমালিয়া, ইয়েমেন ও লোহিত সাগর তীরবর্তী দেশগুলোর প্রতি শত্রুতাপূর্ণ অবস্থান।
এডেন উপসাগরের কৌশলগত স্থানে অবস্থিত সোমালিল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে এবং এর নিজস্ব মুদ্রা, পাসপোর্ট ও সেনাবাহিনী রয়েছে।
সোমালিল্যান্ড ইস্যুতে ইসরাইলকে হুঁশিয়ারি, হুথি নেতা বললেন সামরিক লক্ষ্য হবে উপস্থিতি
বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা ও দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়েছে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। জাতীয় প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের জরুরি বৈঠকের পর এই অনুরোধ জানানো হয়। আল আরাবিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনি প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের (পিএলসি) সভাপতি রাশাদ আল-আলিমি শুক্রবার এই সহায়তা চান। তার মতে, সাধারণ মানুষকে রক্ষা ও শান্তি ফিরিয়ে আনতে এ সহায়তা প্রয়োজন।
২০১৫ সালে ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানাসহ ইয়েমেনের অর্ধেক অংশ দখল করে নেয়। বাকি অংশে পিএলসি সরকারের নিয়ন্ত্রণ ছিল, যাকে আন্তর্জাতিকভাবে ইয়েমেনের বৈধ সরকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। কিন্তু ডিসেম্বরের শুরুতে বিচ্ছিন্নতাবাদী সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) এই অংশের বেশিরভাগ অঞ্চল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। সৌদি আরব তাদের সরে যেতে বললেও তারা বরং নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে।
এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরব ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম প্রদেশ হারদামাউতে বিমান হামলা চালায়। এসটিসির দখলে থাকা আল-মাহরা প্রদেশ নিয়েও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সৌদি আরব সতর্ক করেছে, এসটিসি যদি নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে তবে বিভক্তি সৃষ্টি হতে পারে এবং হুতি বিদ্রোহীরা এর সুযোগ নিতে পারে। ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট এসটিসিকে দুই প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিতে আহ্বান জানিয়েছেন।
বেসামরিক সুরক্ষা ও শান্তির জন্য সৌদি জোটের কাছে সামরিক সহায়তা চাইল ইয়েমেন
ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হুথি পরিচালিত একটি আদালত ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ১৭ জনকে গুলি করে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে। হুথি-নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমের বরাতে টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, স্পেশালাইজড ক্রিমিনাল কোর্ট নামের আদালত বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত একটি নেটওয়ার্কে অংশ নেওয়ার অভিযোগে এই রায় দেয়। একই মামলায় একজন পুরুষ ও একজন নারীকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং আরও একজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুল বাসিত গাজী জানান, রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ থাকবে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪–২০২৫ সময়কালে অভিযুক্তরা শত্রু দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ, মোসাদের নির্দেশে তথ্য সংগ্রহ ও হামলায় সহায়তা করেছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী আহমেদ গালেব নাসের আল-রাহাবি ইসরাইলি হামলায় নিহত হওয়ার পর গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
ইয়েমেনে হুথি আদালত ইসরাইল ও মিত্রদের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ১৭ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়
ইয়েমেনের হুথি আনসারুল্লাহ আন্দোলনের নেতা আবদুল-মালিক বদরুদ্দিন আল-হুথি অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও তাদের মিত্ররা গত ২০ বছরে মুসলিম দেশগুলোতে প্রায় ৩০ লাখ নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করেছে। ইয়েমেনের শহীদ স্মরণ সপ্তাহ উপলক্ষে মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এসব হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে পশ্চিমা শক্তিগুলো মুসলিম জাতিগুলোকে দাসে পরিণত করার চেষ্টা করছে। আল-হুথির দাবি, আমেরিকানরাই স্বীকার করেছে যে অধিকাংশ নিহত মানুষ ইসলামী উম্মাহর অংশ। তিনি গাজায় ইসরাইলের অবরোধ ও ক্ষুধার কৌশলকেও মানবতাবিরোধী বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, শাহাদাত মুসলিম জাতির জন্য গর্ব ও সুরক্ষার প্রতীক। আল-হুথি বলেন, পশ্চিমা শক্তিগুলো মুসলমানদের মানসিকভাবে দুর্বল ও বিভ্রান্ত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে, যাতে তারা সহজে নিয়ন্ত্রণে আসে।
ইয়েমেনের হুথি আনসারুল্লাহ আন্দোলনের নেতা আবদুল-মালিক বদরুদ্দিন আল-হুথি অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও তাদের মিত্ররা গত ২০ বছরে মুসলিম দেশগুলোতে প্রায় ৩০ লাখ নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করেছে
ইয়েমেনের উপকূলের কাছে এডেন উপসাগরে শনিবার একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে, এতে জাহাজটিতে ভয়াবহ আগুন ধরে গেছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স (UKMTO) কেন্দ্র। হামলাটি এডেন থেকে প্রায় ২১০ কিলোমিটার পূর্বে ঘটে। ক্যামেরুনের পতাকাবাহী এই জাহাজটি ওমানের সোহার থেকে জিবুতির পথে যাচ্ছিল। সমুদ্র নিরাপত্তা সংস্থা অ্যামব্রে জানিয়েছে, ইয়েমেনের আহওয়ার উপকূল থেকে প্রায় ৬০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণে অবস্থানকালে জাহাজটি জরুরি সহায়তার বার্তা পাঠায়। উদ্ধার অভিযান ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। যদিও এখনো হুথি বিদ্রোহীরা হামলার দায় স্বীকার করেনি, সাম্প্রতিক সময়ে তারা লোহিত সাগরে ইসরাইল ও তার সহযোগী জাহাজগুলোর ওপর হামলা চালিয়ে আসছে। অ্যামব্রে জানিয়েছে, আক্রান্ত জাহাজটি হুথিদের সাধারণ লক্ষ্যবস্তু তালিকায় ছিল না। হামলার উৎস ও কারণ তদন্তাধীন রয়েছে।
ইয়েমেনের উপকূলের কাছে এডেন উপসাগরে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে
হিজবুল্লাহর উপপ্রধান নাইম কাসেম যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনাকে ‘বিপজ্জনক’ ও ইসরাইলের রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে অভিহিত করেছেন। ৪ অক্টোবর লেবাননে এক স্মরণসভায় তিনি বলেন, ইসরাইল সামরিক আগ্রাসন ও অবরোধের মাধ্যমে যা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে, তা এখন কূটনৈতিকভাবে হাসিল করতে চাইছে। কাসেমের মতে, এই পরিকল্পনা ‘গ্রেটার ইসরাইল’ প্রকল্পের অংশ, যা শুধু গাজা ও পশ্চিম তীর নয়, বরং জর্ডান, লেবানন ও সিরিয়ার কিছু অংশকেও অন্তর্ভুক্ত করে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই পরিকল্পনা একসময় পুরো অঞ্চলের জন্য হুমকি হয়ে উঠবে, তাই সবারই এর বিরোধিতা করা উচিত। কাসেম আরও জানান, প্রস্তাবটি গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠন।
হিজবুল্লাহর উপপ্রধান নাইম কাসেম যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনাকে ‘বিপজ্জনক’ ও ইসরাইলের রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে অভিহিত করেছেন
ইয়েমেনের হুথি নিয়ন্ত্রিত সামরিক বাহিনী সানায় ইসরাইলি বিমান হামলার জবাবে তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, যেখানে অন্তত ৮ জন নিহত এবং ১৪২ জন আহত হয়েছেন। হাইপারসনিক “প্যালেস্টাইন-২” ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইয়েমেনি বাহিনী ইসরাইল অধিকৃত জাফা অঞ্চলের সংবেদনশীল স্থানে হামলা চালিয়েছে। এই অভিযান চলমান গাজা ও ইয়েমেনে ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় পরিচালিত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছেন যে লোহিত ও আরব সাগরে থাকা যেকোনো নৌযান পরিচয় প্রকাশ না করলে হামলার লক্ষ্য হতে পারে।
ইয়েমেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাজধানী সানায় একাধিক ইসরায়েলি বিমান হামলা সফলভাবে প্রতিহত করেছে, গুরুত্বপূর্ণ ক্ষয়ক্ষতি ও নাগরিক হতাহতেরোধ করেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ইসরায়েল ২০টি যুদ্ধবিমান এবং জাহাজ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও আবাসিক এলাকা লক্ষ্যবস্তু করেছে। ইয়েমেনি প্রতিরক্ষা বাহিনী শত্রু বিমানকে বোমা বর্ষণ শেষ করার আগে সরে যেতে বাধ্য করেছে। হাসপাতালে অন্তত ৮ জন নিহত ও ৪৮ জন আহত হয়েছে, প্রত্যক্ষদর্শীরা বিস্তৃত আতঙ্ক ও সম্পত্তির ক্ষতি উল্লেখ করেছেন। ইসরায়েল স্বীকার করেছে যে ইয়েমেনিদের প্রতিরোধ মোকাবিলা করা কঠিন।
ইয়েমেনের রাজধানী সানায় ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এসব হামলায় কমপক্ষে নিহত হয়েছে ৮ জন এবং আহত হয়েছে অন্তত ১৪২ জন। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর দাবি, এতে অংশ নিয়েছে ডজনের বেশি যুদ্ধবিমান। হুথির কমান্ড হেডকোয়ার্টারসহ বিভিন্ন স্থাপনা ছিল লক্ষ্য। হুথির অভিযোগ, আবাসিক এলাকায় চালানো হয়েছে অভিযান। গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে বেশ কয়েকটি ভবন। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে চলছে উদ্ধারকাজ। এর আগে, বুধবার ইসরায়েলের ইলাত শহরে ড্রোন হামলা করে হুথি। যাতে আহত হয় বেশ কয়েকজন ইসরায়েলি।
গত ২৪ ঘন্টায় একনজরে ১৩৭ টি নিউজ শেয়ার হয়েছে। আরো নিউজ দেখতে লগইন করুন। যেকোন সমস্যায় আমাদের ফেসবুক পেজ একনজর-এ যোগাযোগ করুন।